অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত পোরশার মাসুদ হুইল চেয়ারে জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নওগাঁর পোরশা উপজেলার চক বিষ্ণপুর বেলপুকুর গ্রামের হাঁড়িপাতিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি দরিদ্র বাবার একমাত্র ছেলে। বাবার সামান্য রোজগারের টাকায় সংসার এবং নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া রানার পড়ালেখা চলছিল বেশ ভালই। তখন রানার বয়স ১৪ থেকে ১৫বছর। বর্তমান তার বয়স ২৬। বাবা আব্দুর রহিম তার ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বেশ ভাল।

কিন্তু হঠাৎ রহিম সড়ক দুর্ঘ্যটনায় পতিত হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি পা ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে বিছানারত হয়ে পড়েন। তার চিকিৎসা খরচ ও সংসার চালানো অর্থ সম্বলহীন পরিবারটির তখন মরার উপরে খাঁড়ার ঘা। বাধ্য হয়েই পড়ালেখা ছাড়তে ছেলে মাসুদ রানাকে। বাবার চিকিৎসা ও সংসারের প্রয়োজনে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাল ধরতে হয় বাবার একমাত্র আয়ের উৎস ক্ষুদ্র হাঁড়িপাতিল ব্যবসার।

আরে সকাল-সন্ধ্যা ফেরি করে গ্রামে-গ্রামে হাঁড়িপাতিল বিক্রি শুরু করেন। এতে সারাদিনে তার আয় হতো অন্তত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এরকমভাবে একটানা ৫ বছর ব্যবসা থেকে উপার্জিত টাকা দিয়ে সংসার চালানো সহ আব্দুর রহিমকেও সুস্থ করে তুলেছেন। বাবাকে সুস্থ করে তোলার পাশাপাশি কারো কাছে যেন তাকে হাত পাততে না হয় সেজন্য স্থানীয় বাজারে ছোট্ট একটি ফলের দোকান করে দিয়েছেন মাসুদ রানা।

এতে কিছুটা হলেও সুখের সন্ধান পেয়েছিল সে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। কিছুদিন পরই হঠাৎ অজ্ঞাত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন মাসুদ রানা। বাবাকে সুস্থ করে তোলা ছেলেটি এখন নিজেই অসুস্থ্য। মাসুদ রানা জানান, কি রোগ হয়েছে? সঠিক বলতে পারছেনা কেউ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য গিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে জানান। বিগত ৪ বছর ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন কোন ফল হয়নি।

বরং আস্তে আস্তে তার তরতাজা শরীর যেন বলসারহীন হয়ে পড়ছে বলেন মাসুদ রানা। তিনি এখন চলাফেরা করছেন হুইল চেয়ারে। কিন্তু নিজে কোন মতেই হুইল চেয়ার চালাতে পারছেন না। তার বাবা তাকে চলাফেরা করান বলে জানান। মাসুদ রানার বাবা আব্দুর রহিম জানান, সে সুস্থ হলেও তার ছেলে হঠাৎ অসুস্থ্য হওয়ার ফলে বন্ধ হয়ে যায় তাদের ব্যবসা।

বন্ধ হয়ে যায় তাদের রোজগারের পথ। সে সুস্থ হলেও অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তার পরিবার। ছেলের চিকিৎসা খরচ যোগাতে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায় তার আয়ের উৎস ফলের দোকানটিও। এখন ঠিকমত ছেলের চিকিৎসা করাতে পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করিয়েও কোন রোগ ধরা পড়েনি।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিলে হয়তো তার ছেলে সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন বলে তিনি মনে করছেন। কিন্তু অভাবের সংসারে ছেলেকে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া একেবারেই অসম্ভব বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, জানিনা আর কতদিন এভাবে জীবনের সাথে লড়াই করে তাকে বাঁচতে হবে।

মাসুদ রানাও স্বপ্ন দেখছেন সুস্থ হয়ে উঠার। এমতাবস্থায় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সমাজের বৃত্তবানদের তাদের একমাত্র ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। মাসুদ রানার বিকাশ নং ০১৯৫৩-১২৩৯৬৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *