নতুন বছরে রাজশাহীতে বেড়েছে গ্যাসের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

এক মাসের ব্যবধানে ফের বাড়ল সিলিন্ডার (এলপিজি) গ্যাসের দাম। নতুন বছরের শুরুতেই গ্যাস কিনতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন গ্রাহক। সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি দাম গুণতে হয়েছে ১শ থেকে দেড় শ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ২ জানুয়ারি সকল কোম্পানির সিলিন্ডারের দাম এক থেকে দেড় শ টাকা বেড়ে সাড়ে ৯ শ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন বছরের শুরুতেই গত রোববার থেকেই বাজারে বর্ধিত দামে গ্যাস বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নগরীর কয়েকজন এলপিজি ডিলার জানান, হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কারণ তাদের জানা নাই। তারা বলছেন, এজেন্টরা দাম বৃদ্ধি করলে তারা বর্ধিত দাম সমন্বয় করে গ্যাস বিক্রি করে থাকেন ভোক্তাদের নিকট। দাম বৃদ্ধি বা কমার সাথে তাদের কোন হাত নাই। কিন্তু ক্রেতাদের জেরার মুখে তাদেরকেই পড়তে হয়।

সূত্র জানায়, গতবছর নভেম্বর মাস থেকে বাড়তে শুরু করে গ্যাসের দাম। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সকল কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৮০/৯০ টাকা বাড়ানো হয়। যাতে করে ৭৫০ টাকার সিলিন্ডার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪০ থেকে ৮৫০ টাকায়। আর এক মাসের ব্যবধানে নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন দাম বাড়লো ১শ থেকে দেড় শ টাকা। করোনাকালীন অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বলেই মনে করছেন ভোক্তারা।

ভোক্তারা বলছেন, সকল নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে মানুষ এমনিতেই বেকায়দায়, তার ওপর আবারও বাড়ানো হলো গ্যাসের দাম। ভোক্তাদের অভিযোগ শীতকালে গ্যাসের চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে বাড়ে আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো প্রতি বছরই দাম বাড়িয়ে থাকে। এবারেও হয়নি এর ব্যতিক্রম। শীতের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে গ্যাসের দাম। ৭ শ ও সাড়ে ৭ শ টাকার গ্যাসের দাম এখন দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায়। নগরীর বিভিন্ন গ্যাস বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায় গত শনিবার থেকে তারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি শুরু করে।

এদিকে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি ২শ থেকে ২৫০ টাকা মূল্যবৃদ্ধিতে অনেক ক্রেতাকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সিলিন্ডার নিতে আসা আব্দুল মতিন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এমনিতেই নিত্যপণ্যের বাজার লাগাম ছাড়া। এর সাথে যোগ হলো গ্যাসের বর্ধিত মূল্য। কিন্তু কি কারণে এই মূল্য বৃদ্ধি তারও কোন উত্তর নেই বিক্রেতাদের নিকট।

গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর একটি ডিস্ট্রবিউটারের কর্মকর্তা জানান, গ্যাস কোম্পানিগুলো মূল্যবৃদ্ধি করে আমাদের বর্ধিত মূল্য বেঁধে দিলে আমরা তা কার্যকর করেছি। তিনি আরও জানান, আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশেও গ্যাসের দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, গ্যাসের মূল্য কমা-বাড়ায় কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

গ্যাসবিক্রেতা চাওয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান বাদশা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, দাম কমা-বাড়ার ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছুই নেই। এমন কি কোম্পানি কখন দাম বৃদ্ধি বা কমাবে সে বিষয়ে কিছুই জানা থাকে না আমাদের। কিন্তু দাম বাড়লে ক্রেতাদের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধি যৌক্তিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *