ঈশ্বরদী পৌরসভার নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচন। মেয়র পদে মাঠে রয়েছেন তিনজন প্রার্থী।

এছাড়াও নয়টি ওয়ার্ডে ৪৭ জন কাউন্সিলর বিভিন্ন প্রতীকে অংশ নেন। গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা ও ধানের শীষ তবে বেশ শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী, প্রচার-প্রচারণায় ফুরফুরে ইমেজে রয়েছেন তিনি।

করোনা আর পৌষের কনকনে শীত উপেক্ষা করে ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ছুঁটেছেন।

ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থীর ঈশ্বরদী শহরে কোনো প্রচার প্রচারণায় নেই। বিএনপি থেকে একাংশের প্রার্থী হওয়াতে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি। বিএনপির প্রার্থী বাড়িতে বসেই সময় কাটাচ্ছেন।

এদিকে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে ঈশ্বরদী শহরের অলি-গলি-মহল্লায় মেয়র আর কাউন্সিলরদের পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে ঈশ্বরদীর সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

পাবনার ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা (নৌকা) প্রতীকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন (ধানের শীষ) ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের চরমোনাই পীর সাহেবের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহা. রেজাউল করীম মাসুম (হাতপাখা) প্রতীকে নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততই জমে উঠছে। নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কার সমর্থনে প্রতিদিনই ধারাবাহিকভাবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন, দলীয় নেতাকর্মীরা।

বিকেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উঠান বৈঠক করছেন। মাইকে ভেসে আসছে নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার শব্দ। নৌকার প্রার্থী নিজেও চষে বেড়াচ্ছেন পৌর এলাকার প্রতিটি মহল্লার অলিগলি। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বিএনপি প্রার্থীর বেলায়।

পৌরসভার ব্যস্ততম জায়গায় ধানের শীষ প্রতীকের কোনো পোস্টার চোখে পড়ছে না। হয়নি কোনো সভা-সমাবেশ, নেই তেমন প্রচার। মাঠে নেই কোনো কর্মী।

এদিকে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে সরকার দলীয় ক্যাডাররা। হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঈশ্বরদী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জানান, নিজেদের দলীয় কোন্দলেই পুড়ছে বিএনপি। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে দলের বিএনপির নেতাকর্মীরাই অনেকেই নাই। আবার ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর হাতপাখা প্রতীকের পোস্টার অলিতগলিতে শোভা পাচ্ছে। তবে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ইছাহক হক আলী মালিথা বলেন, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমি। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার মানে উন্নয়ন, বিএনপি মানে দুর্নীতি আর লুটপাট। জনগণ অনেক সচেতন।

ভোটাররা আগামী ১৬ জানুয়ারি বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট সেন্টারে গিয়ে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর নির্মাণাধীন প্রকল্প রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পেট গ্রিন সিটির আদলে অবহেলিত ঈশ্বরদী পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করব।

তরুণ প্রজন্মদের শিশু ও কিশোরদের শিক্ষা, খেলাধুলা, বিনোদনের জন্য স্টেডিয়াম প্রয়োজন, দরকার শিশুপার্ক। এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়ন তো হবেই। আধুনিক সকল সেবা পৌরবাসী ভোগ করবে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন জানান, নির্বাচনের নেই কোনো পরিবেশ। তবে জনগণ যদি সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাই তাহলে আমি ভোটে নির্বাচিত হবো। আমি নির্বাচিত হলে সাবেক ও সফল মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব।

আমি যদি নির্বাচিত হয়, সবার আগে ঈশ্বরদী শহরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে পৌরবাসীকে সঙ্গে করে রেলগেটে একটি ফ্লাইওভার করার উদ্দ্যোগ নিব।

১৬ জানুয়ারি ঈশ্বরদী পৌরসভার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মোট ভোটার ৫৫ হাজার ৫৬৮ জন। পুরুষ ভোটার ২৭ হাজার ২৪১ জন। নারী ভোটার ২৮ হাজার ৩২৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৯টি। বুথের সংখ্যা ১৫২টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *